ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ আত্রাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ চিরিরবন্দরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট!

গৃহকর্মী নির্যাতন রোধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

  • থিম বিক্রয়
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে
৭২

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী কর্তৃক ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীর ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি আমাদের সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ও বিত্তবান শ্রেণির ভেতরের কদর্য রূপটি উন্মোচিত করেছে। এই দম্পতি দিনের পর দিন ওই শিশু গৃহকর্মীর ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে, একে কেবল ‘পৈশাচিক’ বললেও কম বলা হয়। বস্তুত এটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম দেউলিয়াত্ব। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করায় তার হাত ও পায়ের হাড় ফেটে যায়। গলা, হাত ও পায়ের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এ ঘটনায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রশ্ন জাগে, মানুষ কতটা বিকৃত হলে একটি অবুঝ শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারে? শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে কর্মরত। অথচ তার নিজের ঘরের ভেতর যে পৈশাচিকতা চলেছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। তথাকথিত এই ‘ভদ্রলোক’ ও তার স্ত্রীর কাছে কি মানবিকতা বলতে কিছুই নেই? শফিকুর ও তার স্ত্রীর এ ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সম্পদ ও পদমর্যাদা মানুষকে আধুনিক করতে পারে; কিন্তু ‘মানুষ’ করতে পারে না।

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। কেন এমন ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ দেশে শিশুশ্রম আইনত নিষিদ্ধ এবং শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন রয়েছে। তবুও কেন বারবার গৃহকর্মীরা এমন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে? বস্তুত এর প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গৃহকর্মীদের ‘মানুষ’ হিসাবে গণ্য না করার মানসিকতা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তি অর্থ ও ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যায়। ফলে শিশু নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধ হয় না।

তাই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিচার হওয়া জরুরি। এ মামলায় কোনো ধরনের আপস বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ যেন না থাকে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। সেই সঙ্গে সবাইকে বুঝতে হবে, গৃহকর্মীরা কোনো ক্রীতদাস নয়। তারা মানুষ এবং তাদেরও অধিকার আছে নিরাপদে থাকার। ধনীর অট্টালিকা যেন কোনো শিশুর জন্য আর ‘নরক’ হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আজ যদি আমরা অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও হাজারো শিশু এমন অভিশপ্ত ভাগ্যের শিকার হবে। সমাজ থেকে এই মনোবৈকল্য দূর করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

গৃহকর্মী নির্যাতন রোধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

আপডেট সময় ০৩:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৭২

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী কর্তৃক ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীর ওপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি আমাদের সমাজের তথাকথিত শিক্ষিত ও বিত্তবান শ্রেণির ভেতরের কদর্য রূপটি উন্মোচিত করেছে। এই দম্পতি দিনের পর দিন ওই শিশু গৃহকর্মীর ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে, একে কেবল ‘পৈশাচিক’ বললেও কম বলা হয়। বস্তুত এটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম দেউলিয়াত্ব। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে খুন্তি গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করায় তার হাত ও পায়ের হাড় ফেটে যায়। গলা, হাত ও পায়ের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এ ঘটনায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রশ্ন জাগে, মানুষ কতটা বিকৃত হলে একটি অবুঝ শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারে? শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে কর্মরত। অথচ তার নিজের ঘরের ভেতর যে পৈশাচিকতা চলেছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। তথাকথিত এই ‘ভদ্রলোক’ ও তার স্ত্রীর কাছে কি মানবিকতা বলতে কিছুই নেই? শফিকুর ও তার স্ত্রীর এ ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, সম্পদ ও পদমর্যাদা মানুষকে আধুনিক করতে পারে; কিন্তু ‘মানুষ’ করতে পারে না।

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। কেন এমন ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ দেশে শিশুশ্রম আইনত নিষিদ্ধ এবং শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর আইন রয়েছে। তবুও কেন বারবার গৃহকর্মীরা এমন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে? বস্তুত এর প্রধান কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং গৃহকর্মীদের ‘মানুষ’ হিসাবে গণ্য না করার মানসিকতা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারী প্রভাবশালী ব্যক্তি অর্থ ও ক্ষমতার জোরে পার পেয়ে যায়। ফলে শিশু নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধ হয় না।

তাই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের দায়ে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিচার হওয়া জরুরি। এ মামলায় কোনো ধরনের আপস বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ যেন না থাকে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। সেই সঙ্গে সবাইকে বুঝতে হবে, গৃহকর্মীরা কোনো ক্রীতদাস নয়। তারা মানুষ এবং তাদেরও অধিকার আছে নিরাপদে থাকার। ধনীর অট্টালিকা যেন কোনো শিশুর জন্য আর ‘নরক’ হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আজ যদি আমরা অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও হাজারো শিশু এমন অভিশপ্ত ভাগ্যের শিকার হবে। সমাজ থেকে এই মনোবৈকল্য দূর করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।